বিশেষ প্রতিবেদন: ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে 'বাংলার যুবসাথী' (Banglar Yuva Sathi Scheme 2026) প্রকল্পের ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ। পাড়ার ক্যাম্প থেকে শুরু করে বিডিও অফিস—সব জায়গাতেই এখন উপচে পড়া ভিড়। মাসে ১৫০০ টাকা পাওয়ার আশায় অনেকেই হুড়মুড়িয়ে ফর্ম ফিলাপ করছেন।
কিন্তু একজন রিপোর্টার হিসেবে বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে এবং অফিশিয়াল গাইডলাইন খুঁটিয়ে পড়ে আমি একটা বিষয় খুব স্পষ্ট বুঝতে পারছি—প্রচুর ফর্ম স্রেফ ছোটখাটো ভুলের কারণে বাতিল হতে চলেছে। ফর্ম জমা দিলেই যে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। সরকারি স্ক্রুটিনিতে (Scrutiny) আটকে যেতে পারে আপনার আবেদন।
যাতে আপনার সাথে এমনটা না হয়, তার জন্য আজ আমি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব সেই ৫টি প্রধান কারণ নিয়ে, যার জন্য Yuva Sathi Application Rejection হতে পারে। শুধু ভুলগুলোই নয়, সাথে জানিয়ে দেব সঠিক নিয়ম কী, যাতে আপনি আগে থেকেই সাবধান হতে পারেন।
১ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার (DBT) লিঙ্ক না থাকা
সবচেয়ে বেশি ফর্ম যে কারণে বাতিল হবে, তা হলো ব্যাঙ্কের সমস্যা। এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে আসবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
২ পেশার জায়গায় ভুল তথ্য দেওয়া (Occupation Mistake)
ক্যাম্পে দাঁড়িয়ে আমি অনেককেই এই ভুলটা করতে দেখেছি, বিশেষ করে যারা এখনও পড়াশোনা করছে বা সদ্য কলেজ পাশ করেছে।
৩ অন্যান্য সরকারি ভাতার সুবিধাভোগী হওয়া
রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নিয়ম আছে যে, একজন ব্যক্তি একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাসিক টাকা একসঙ্গে পেতে পারেন না।
৪ বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় গরমিল (Age & Qualification)
এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো মাধ্যমিক পাশ এবং বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
৫ ফর্মে ছোটখাটো ভুল বা নথিপত্রের অমিল (Minor Mistakes)
অফলাইন ক্যাম্পে হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেকেই এমন কিছু সাধারণ ভুল করছেন, যা পরবর্তীতে অ্যাপ্লিকেশন 'Rejected' হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে। একজন রিপোর্টার হিসেবে বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে আমার চোখে পড়া সবচেয়ে মারাত্মক ৩টি ভুল এবং তার সঠিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
ভুলটা কোথায়: অনেকেই, বিশেষ করে যারা বর্তমানে কলেজে পড়ছেন বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা ফর্মের 'Occupation' বা পেশার জায়গায় সততার সাথে 'Student' লিখে দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারি খাতায় এটি একটি 'বেকার ভাতা'। সিস্টেম যদি দেখে আপনার পেশা 'Student', তবে ধরে নেওয়া হতে পারে আপনি স্কলারশিপের আওতাভুক্ত বা এই ভাতার আসল টার্গেট গ্রুপ নন।
সঠিক নিয়ম: আপনি পড়াশোনা করলেও, যেহেতু আপনার কোনো স্থায়ী রোজগার নেই, তাই ফর্মে পেশার জায়গায় পরিষ্কারভাবে 'Unemployed' বা 'বেকার' লিখবেন।
ভুলটা কোথায়: অনেক বিবাহিত মহিলা ফর্ম ফিলাপ করার সময় নিজেদের নামের পাশে স্বামীর পদবি ব্যবহার করছেন। কিন্তু তাঁদের মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে বিয়ের আগের বাবার বাড়ির পদবি লেখা আছে। এই নথির সাথে নামের অমিল হলে ভেরিফিকেশনের সময় ফর্ম সোজা রিজেক্ট করা হবে।
সঠিক নিয়ম: যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার সময় আপনার নাম হুবহু তাই লিখবেন, যা আপনার মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে ছাপা আছে। আধার কার্ডে যদি বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন হয়েও থাকে, তবুও মূল ফর্মে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের বানান এবং পদবিই অগ্রাধিকার পাবে।
ভুলটা কোথায়: ফর্মে কোনো ভুল হলে তার ওপর ঘষামাজা করা বা ফ্লুইড (Whitener) ব্যবহার করা। এছাড়া, জমা দেওয়া জেরক্স কপিগুলোতে (যেমন- আধার কার্ড, মাধ্যমিকের মার্কশিট) নিজের সই বা সেল্ফ-অ্যাটেস্ট না করা।
সঠিক নিয়ম: ফর্ম সবসময় পরিষ্কার বড় হাতের অক্ষরে পূরণ করবেন। কোনো জায়গায় ভুল হলে সেই ফর্মটি বাতিল করে নতুন একটি ফর্ম নিয়ে পূরণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া, ফর্মে নির্দিষ্ট ডিক্লারেশনের নিচে নিজের সম্পূর্ণ সই করবেন এবং ফর্নের সাথে দেওয়া প্রতিটি নথির জেরক্স কপির নিচে অবশ্যই 'Self-Attested' লিখে নিজের সই করবেন।
যারা ইতিমধ্যে ফর্ম জমা দিয়ে দিয়েছেন, তারা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপটি যত্ন করে রাখুন। খুব শীঘ্রই পোর্টালে ডেটা আপলোড হয়ে গেলে আপনি অনলাইনেই আপনার Yuva Sathi Application Status Check করতে পারবেন।